তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন

oily-skin-680x450

তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নেয়াটা একটু কঠিন।একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল আমাদের ত্বকের জন্য জরুরী যা আমাদের ত্বককে স্বাস্থ্যবান রাখে,তারুণ্য ধরে রাখতে সহায়তা করে এবং আমাদের ত্বককে শুষ্ক করার হাত থেকে রক্ষা করে।তৈলাক্ত ত্বকের সুবিধা হল,তেল বলীরেখা ও মুখের রঙের কোন পরিবর্তন হওয়া থেকে রক্ষা করে।কিন্তু তৈলাক্ত ত্বকের অসুবিধাও কম না।তৈলাক্ত ত্বকে খুব সহজে ধুলোবালি আটকে যায় এবং অতিরিক্ত তেল মুখের পোরগুলোকে বন্ধ করে দেয়।এতে করে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়ে ব্রন হওয়ার প্রকোপ বাড়ে।তৈলাক্ত ত্বক যে কারো ,যে কোন বয়সেই হতে পারে।এটি অবহেলা করবেন না।কিন্তু তৈলাক্ত ত্বকের যত্নের আগে আসুন জেনে নেয়া যাক কিভাবে বুঝবেন আপনার ত্বক তৈলাক্ত।

এই উপসর্গগুলো থাকলে বুঝবেন যে আপনার ত্বক তৈলাক্ত -

১.চকচকে এবং পিচ্ছিল একটা ভাব থাকে কপালে, নাকে এবং থুতনিতে।এই এলাকাকে টি জোন বলে

.ত্বকটি নরমাল বা স্বাভাবিক ত্বকের চেয়ে ঘন ,মোটা থাকে

৩.মুখের পোরগুলো বড় থাকে এবং খালি চোখেই দেখা যায়

৪.ব্রন ,ব্ল্যাকহেডস ,হোয়াইট হেডস এবং গুটিগুটি উঠে মুখে

৫.মুখ ধোয়ার কিছু সময় পরেই মুখ তৈলাক্ত হয়ে যায়

.ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ অতিরিক্ত তৈলাক্ত থাকে

৭.নাকের চারপাশে সাদা সাদা চামড়া থাকে

.চুল তৈলাক্ত থাকে

তৈলাক্ত ত্বকের কারণ :

তেল গ্রন্থিগুলো মানে সিবেসিয়াস গন্থি সক্রিয় হলে সেবাম উত্পন্ন হয়।সেবাম একটি তৈলাক্ত উপাদান যা এই গ্রন্থিতে উত্পন্ন হয়।এর কাজ মূলত আমাদের ত্বকে ময়েশ্চারাইজিং করা এবং আমাদের ত্বককে বাইরের শুষ্ক আবহাওয়া থেকে বাঁচানো ।কিন্তু অতিরিক্ত সেবাম ত্বককে তৈলাক্ত করে এবং ব্রন বা ব্রন রিলেটেড সমস্যা তৈরী করে।এই অতিরিক্ত সেবাম তৈরীর কারণ হল :

১.বংশগতঃযাদের পরিবারে কারো তৈলাক্ত ত্বক থাকে সাধারণত তাদেরও ত্বক তৈলাক্ত হয়।তবে সুসংবাদ যে ,বয়সের সাথে এই তেল গ্রন্থিগুলোর তেল উৎপাদন কমে যায়।

২.হরমোন অথবা হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলেঃ বয়ঃসন্ধিকালে এন্ড্রোজেন নামক হরমোন নিঃসরণ হয় যা সিবেসিয়ান গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে ফলে অতিরিক্ত সেবাম উত্পন্ন হয়।এছাড়া গর্ভাবস্থা ,মেনোপোজ এবং জন্মনিয়ত্রণ বড়ির জন্য সেবাম তৈরী বেশি হয়।

৩.কসমেটিক:তেলযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহারের কারণেও ত্বক তৈলাক্ত হতে পারে ।

৪.সাবান এবং অতিরিক্ত মুখ ধোয়ার কারণেঃ বেশী ক্ষারযুক্ত সাবান ত্বকের স্বাভাবিক মেকানিজমকে ক্ষতিগ্রস্থ করে এবং সিবেসিয়ান গ্রন্থিকে বেশি কার্যক্ষম করে ,ফলে তেল উত্পন্ন হয়।যারা অতিরিক্ত বা বার বার মুখ ধোয় তাদের মুখের প্রয়োজনীয় তেল চলে যায় ফলে তেল গ্রন্থিগুলো ত্বককে বাঁচাতে আরো বেশী তেল তৈরি করে ।

৫.খাবারঃ বলা হয়ে থাকে যে ,চকলেট ,সফট ড্রিংকস এবং তেলে ভাজা খাবারের কারণে ত্বক তৈলাক্ত হতে পারে।এছাড়া ভিটামিন বি২ এবং ভিটামিন বি৫ ও ভিটামিন এ এর অভাব হলেও ত্বক তৈলাক্ত হয়।

অন্যান্য কারণ:

-কিছু ওষুধ ব্যবহারের ফলে

-অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া

-কর্মক্ষেত্রে পরিবেশ গরম থাকলে

-ধুমপান করলে

তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন :

২ ভাবে ।একটা হল বেসিক বা প্রাথমিক যত্ন ।অন্যটি হল প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে যত্ন । প্রথমেই আসা যাক বেসিক কি কি যত্ন করবেন ।৩টি প্রধান কাজ করতে হয় এই অংশে । কাজগুলো হল-

১.মুখ ভালভাবে পরিষ্কার করা : মুখ ভালভাবে ধোয়া হল তৈলাক্ত ত্বকের যত্নের মূল চাবিকাঠি ।এমনভাবে মুখ ধুতে হবে যাতে মুখের অতিরিক্ত তেল উঠে যায় কিন্তু লিপিড অথবা গ্রন্থির ভিতরের পুরা তেল উঠে না যায় ।কারণ একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল ও লিপিড আমাদের দরকার ।তাই যেই ক্লিনজার ব্যবহার করবেন তা যেন মৃদু সিনথেটিক ডিটারজেন্ট হয় (মুখের জন্য তৈরী) এবং যেটা তেল ,মোম এবং লিপিডমুক্ত যেন থাকে ।এটি মুখকে শুষ্ক না করেই অতিরিক্ত তেল ধুয়ে ফেলে।মৃদু সাবান এবং আইভরি অথবা প্রাকৃতিক সাবান ব্যবহার করা ভাল ।দিনে ২/৩ বার মুখ ধোবেন এর বেশীনা ।মুখ ধোয়ার জন্য হালকা গরম পানি ব্যবহার করুন ।মুখ অনেক ঘসবেন না ধোয়ার সময় ।শুধুমাত্র হালকা ম্যাসাজ করে নিবেন ।কিছু ক্লিনজারে মৃদু আলফা হাইড্রোক্সি এসিড থাকে যেমন স্যালিসাইলিক এসিডযুক্ত থাকে যা মরা কোষকে দূর করে পোর বন্ধ করে সেবাম তৈরি কমায় ।এছাড়েও যে ক্লিনজার গুলোতে বেনসোল পারঅক্সাইডেজ থাকে সেগুলো এন্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে ।এক্সফোলিয়েটিং প্যাড যেমন গ্লাইকোলিক প্যাড মরা কোষ দূর করতে ব্যবহার করতে পারেন ।সপ্তাহে ২/৩ বার ।

২.টোনার : এটি মুখ ধোয়ার পর দিবেন ।এটি ত্বকের কোষকে সংকুচিত করে ,টাইট করে ফলে পোর থেকে তেল কম বের হয় ।এটি ত্বকের ph কমায় ।এলকোহল যুক্ত টোনার ব্যবহার করবেন ।এছাড়ে যে টোনারে এসিটোন থাকে তা কেনার চেষ্ট করবেন ।এলকোহল মুখকে শুষ্ক করে ।

৩.মশ্চারাইজার : মৃদু , তেল মোম ও লিপিডমুক্ত মশ্চারাইজার ব্যবহার করুন ।যাদের অতিরিক্ত তৈলাক্ত তাদের এটি ব্যবহারের দরকার নেই ।

অন্যান :

.অয়েল ফ্রি কসমেটিক ব্যবহার করুন

.ঘুমানোর আগে মেকাপ তুলুন

.মুখ না ধুয়ে মুখে হাত দিতে ছোঁবেন না বা ঘসবেন না ।এতে পোর বন্ধ হয়ে ব্রন হতে পারে ।

.দরকার হলে ভিটামিন এ ক্রীম ,রেটিনয়েডস ,সালফার ক্রীম দিতে বলে ডার্মাটোলজিস্টরা ।

.সুষম খাবার খান ।প্রচুর ফলমুল ,শাক সবজী ,শিম ,বাদাম যাতে ভিটামিন বি২ ও বি৫ ঘাটতি না হয় ।

          .ধুমপান পরিহার করুন ।রিলাক্স থাকুন এবং পর্যাপ্ত ঘুমান ও পানি পান করুন

তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক কিছু উপাদান ও প্যাক 

১.আপেলের রস ও লেবুর রস একসাথে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন

২.একটি পাত্রে পানি গরম করে তাতে চা পাতা দিয়ে ফুটিয়ে নিন এরপর মুখ
গামছা দিয়ে ঢেকে গরম ভাব নিন মুখে ৩ মিনিট

(1610)

Related posts:

মন্তব্য

মন্তব্য

Leave a Reply