গুগল অ্যাডসেন্স নিয়ে সাত কাহন!

adse

যারা এই বিষয়ে শিখতে আগ্রহী ও নবীন, আশা করি তাদের কিছুটা হলেও কাজে দিবে। প্রথমেই বলেছি- গুগল অ্যাডসেন্স নিয়ে লেখার বিষয় শেষ করা যাবেনা, লিখতে গেলে বেশ বড় একটি পান্ডুলিপিতে পরিণত হবে। তবে হ্যা পরবর্তীতে কোন এক সময়ে গুগল অ্যাডসেন্স নিয়ে ভালভাবে বেশকয়েকটি পর্বে টিউটোরিয়াল করার ইচ্ছা থাকছে যা পরবর্তীতে দেখতে পাবেন ইনশাআল্লাহ্! সেই জন্য যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন!!

What is Google Adsense? গুগল এডসেন্স কি?

আমরা আমাদের প্রতিদিনের কাজের জন্য তথ্য খুজতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন এর মাধ্যমে ওয়েব সাইট বা ব্লগে ভিজিট করে থাকি, সে সময় দেখা যায় সেই সব ওয়েব সাইটের কোন কোন টিতে ব্যানারের স্থানে বা সাইড বারে বা পোস্টের মাঝে কত গুলি লিঙ্ক বা ব্যানার অ্যাড থাকে আর তাতে লেখা থাকে “ads by Google” বা AdChoice এখন হয়ত আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে “ads by Google” বা এই “গুগল অ্যাডসেন্স কি ” । হ্যা এই অ্যাডস গুলিই গুগল অ্যাডসেন্স। আপনি হয়ত জেনে থাকবেন যে আপনি যদি ঐ সব লিংকে বা অ্যাডে ক্লিক করেন তবে ওই সাইটের মালিকের গুগল আডসেন্স এ্যাকাউন্টে কিছু টাকা জমা হবে।

অ্যাডসেন্স (ইংরেজি: AdSense) গুগল পরিচালিত একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন। এটি মূলত একটি লাভ-অংশিদারী প্রকল্প যার দ্বারা ব্যবহারকারী তার ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত বিজ্ঞাপনের বিষয়বস্তু থেকে অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হন। একটি ওয়েবসাইটের মালিক কিছু শর্তসাপেক্ষে তার সাইটে গুগল নির্ধারিত বিজ্ঞাপণ প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। আজকের অনলাইন বিশ্বে এই বিষয়টি ব্যপক সাড়া জাগিয়েছে।

২০১৪ সালের Q1তে, গুগল $২৫.৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছিল ($৩৮.১৬ বিলিয়ন বার্ষিক), অথবা  অ্যাডসেন্সের মধ্য দিয়ে মোট রাজস্ব ৪০% আয় করেছিল। এডসেন্স গুগলের বিজ্ঞাপন প্রচার প্রোগ্রাম। এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে গুগল তৃতীয় পরে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন ওয়েবমাস্টার এবং ব্লগের মালিকদের নিকট বন্টন করে। ওয়েবসাইটে গুগল এডসেন্স বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের মাধ্যমে ওয়েবমাস্টাররা অর্থ উপার্জন করতে পারে। বিজ্ঞাপণদাতাদের নিকট থেকে প্রাপ্ত অর্থের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ওয়েবমাস্টরদের মাধ্যমে বিতরণ করে গুগল। গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে যেকেউ অর্থ আয় করতে পারে। প্রচুর বাংলাদেশী ব্লগার এবং ওয়েবসাইটের মালিক গুগল অ্যডসেন্সের বিজ্ঞাপণ প্রদর্শণের মাধ্যমে বর্তমানে অর্থ আয় করছেন। গুগল অ্যডসেন্সের মাধ্যমে আয় করতে হলে আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটের নুন্নতম কিছু ভিজিটর প্রয়জন হবে। আপনার ব্যবহারের ইন্টারনেট এর আই পি এড্রেস হতে হবে নির্দিষ্ট। অতঃপর আপনাকে গুগল অ্যডসেন্সে সাইন আপ করতে হবে। এরপর গুগল আপনার ওয়েব সাইট পর্যবেক্ষন করার পরে আপনার দেয়া সব ইনফরমেশন ও রিক্রুইটমেন্ট ঠিক থাকলে ওয়েবসাইট এ বিজ্ঞাপন প্রকাশ করবে এবং আপনাকে একটি কোড দেয়া হবে যা হবে আপনার পেমেন্ট পাওয়ার পাসয়ার্ড।

অ্যাডসেন্স পাবলিশারদের যে১০বিষয় অবশ্যই জানতে হবে!

আমাদের কাছে অনেকেই অ্যাডসেন্স সম্পর্কিত বিভিন্ন টিপস, ট্রিক্স জানতে চান। আজ শেয়ার করবো অ্যাডসেন্স নিয়ে কাজ করতে গেলে আপনাকে যে ১০টি বিষয় অবশ্যই জানতে হবে।

 

১. এমনই বিষয় নিয়ে ওয়েবসাইট করবেন, যে বিষয়ে আপনার আগ্রহ এবং খুব ভালো জানাশোনা রয়েছে।

২. রেভিনিউ বাড়াতে একাধিক ওয়েবসাইট নিয়ে কাজ করুন, প্রতি সাইটে একটি নিশ নিয়ে লিখুন।

৩. গুগল চায় ভালো মানের ইউনিক কনটেন্ট, যা সার্চে ভালো পজিশনে থাকবে। তাই এই বিষয়টিতে নজর দিন।

৪. গুগল সাপোর্ট করে না এমন সব ভাষায় লেখা সাইটে অ্যাড বসানো থেকে বিরত থাকুন। (যেমন বাংলা ভাষার সাইটে অ্যাড বসাবেন না)

৫. হাই পেয়িং কিওয়ার্ড টার্গেট না করে, ব্লগে কোয়ালিটি কনটেন্ট এর উপর জোর দিন।কিওয়ার্ড টার্গেট করে কনটেন্ট ডেভেলপ করে নিয়মিত আপনার সাইটকে আপডেট করার চেষ্টা করুন।

৬. অ্যাডের কোড পরিবর্তন করার চেষ্টা করবেন না। যদি পরিবর্তন করতেই হয়, তাহলে অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট থেকেই পরিবর্তন করুন।

৭. ছবির সাথেই গুগলের অ্যাড কখনই বসাবেন না। এতে ভিসিটর বিভ্রান্তিতে পড়ে আর এটা গুগল কখনো সাপোর্ট করে না, যা অ্যাডসেন্স ব্যান হওয়ার কারণ হতে পারে।

৮. সাইটের সঙ্গে মানানসইভাবে অ্যাড বসান। ভিসিটরকে বিভিন্ন লেখার (Click here,Click this) মাধ্যমে অ্যাড এ ক্লিক করতে অনুপ্রাণিত করবেন না।

৯. নিয়মিত আপনার অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট ভালভাবে চেক করবেন। হঠাৎ করে কেন আপনার ব্লগে ক্লিক বেড়ে গেল তা চেক করবেন। অসঙ্গতি লক্ষ্য করলে সাথে সাথে সেটি অ্যাডসেন্সকে কে জানান। আর তখন আপনার অ্যাকাউন্টটি নিরাপদ থাকবে।

১০. অ্যাডসেন্স সচল থাকা স্বত্ত্বেও আরেকটি অ্যাকাউন্ট খোলার চেষ্টা করবেন না। কারণ এটি আপনার বর্তমান অ্যাকাউন্ট ব্যান হওয়ার কারন হতে পারে। কেননা গুগল কখনো মাল্টি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দেয় না।

গুগল অ্যাডসেন্স নিয়ে নতুন ইউজারদের করা কিছু প্রশ্নের উত্তর

গুগল অ্যাডসেন্স এর বিশ্বস্ততার কারনে সকলেই এটা পছন্দ করেন। অ্যাকাউন্ট অ্যাপ্রুভ হচ্ছে না তারপরও কিন্তু থেমে নেই। যথা সাদ্ধ্য চেষ্টা করে চলেছেন প্রতি নিয়ত। আর নতুন ইউজার রা অ্যাকাউন্ট পাবার পরও বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুক্ষীন হচ্ছেন। তারা আমাকে ফেসবুক এ মেসেজ এবং মোবাইল ফোন এবং এসএমএস করে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছেন। এছাড়া ইউজার রা ফেসবুক এর গুগল অ্যাডসেন্স গ্রুপে বিভিন্ন ধরণের প্রশ্ন করেছেন। তারা হয়তো তাদের প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন বা পাননি। আমার এই পোস্টই মূলত তাদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের সংকলন। এখানে আমি আমার মতো করে তাদের কিছু প্রশ্নের উত্তর দেবার চেষ্টা করবো। তাহলে আসুন জেনে নেই কি ছিল তাদের প্রশ্ন আর আমার উত্তর-

(১) বাংলা সাইটে কি গুগল অ্যাড দেয়?

উত্তরঃ হ্যাঁ দেয়। যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ- টেকটিউন্স। আমি নিজেও বাংলা সাইটে অ্যাডসেন্স ব্যবহার করি। আর সেখানে ভালো ভাবেই অ্যাড আসে।

(২) অ্যাডসেন্স বাংলা ভাষা সাপোর্ট করে না তবে অ্যাড আসে কিভাবে?

উত্তরঃ অ্যাডসেন্স বাংলা ভাষা সাপোর্ট করে না এটা সত্য। আর বাংলা ভাষাতে তৈরি সাইটেও অ্যাড দেয় এটাও সত্য। আপনার প্রশ্ন হলো তাহলে কিভাবে দেয়? আসলে আমার যেটা মনে হয়। অ্যাডসেন্স সাইটের কন্টেন্ট ছাড়াও ভিজিটরের লোকেশনের উপর নির্ভর করেও অ্যাড প্রদর্শন করে। আপনি হয়তো খেয়াল করেছেন কি না জানি না। বাংলাদেশ থেকে ভিজিট করার সময় বিক্রয় ডট কম, ফেসবুক, গ্রামীনফোন সহ বিভিন্ন ধরণের অ্যাড দেয়। Adword এর বিজ্ঞাপন দাতারা অনেক সময় জিও লোকেশন টার্গেট করে সাইটে অ্যাড দিয়ে থাকে। এজন্য বাংলা সাইটেও অ্যাডসেন্স থেকে অ্যাড দেখা যায়।

(৩) বাংলা সাইট দিয়ে অ্যাপ্লাই করলে কি অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট পাওয়া যাবে?

উত্তরঃ আপনি তো জানেনি অ্যাডসেন্স সাপোর্টেড ল্যাংগুয়েজ লিস্টে বাংলা ভাষা নেই। তাই বাংলা ভাষায় তৈরি করা সাইট দিয়ে অ্যাপ্লাই করলে আপনার আবেদন গ্রহন যোগ্য হবে না। অ্যাডসেন্স পাবার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। (পরীক্ষিত)

 (৪) বাংলা সাইটে অ্যাড দেখানোর জন্য আমি কি করতে পারি?

উত্তরঃ বাংলা সাইটে অ্যাড দেখানোর পুর্বে আপনাকে একটা ইংরেজি বা অ্যাডসেন্স সাপোর্টেড ভাষায় তৈরি সাইট দিয়ে অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট অ্যাপ্রুভ করিয়ে নিতে হবে। তারপর আপনি বাংলা সাইটে অ্যাড দিন। যা সবাই করে।

(৫) অ্যাডসেন্স পাবার পর কি কপি পেস্ট করা যাবে?

উত্তরঃ এভাবে আর কতদিন? অন্যের কন্টেন্ট কপি পেস্ট না করে ঐ বিষয়টা নিয়ে নিজে ভেবে আপনার মত করে তৈরি করুন তাহলে দেখবেন সম্পুর্ন ইউনিক হয়ে গেছে।

(৬) কপি না করে যদি টাইপ করে দেই তাহলে কি ইউনিক হবে?

উত্তরঃ পরীক্ষায় নকল করা বলতে আপনি কি বুঝেন? যারা এমন প্রশ্ন করেন তারা অবশ্যই এটার উত্তর কমেন্ট দেবেন।

(৭) ১০/১৫ টা পোস্ট দিয়ে কি অ্যাডসেন্স পাওয়া যাবে?

উত্তরঃ আপনার পোস্ট দেওয়া কি এখানেই শেষ? এরপর কি আর পোস্ট দিবেন না? যদি দেন তাহলে দিতে থাকুন পোস্ট বেশি হলে অ্যাডসেন্স পাবার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। তাই নয় কি?

(৮) পোস্ট  গুলোর কত শব্দের হতে হবে?

উত্তরঃ যত বড় করা যায়। ৪৫০-৫০০ বা এর বেশি হলে ভাল হয়।

(৯) একটি অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কতটি সাইটে অ্যাড ব্যবহার করা যাবে?

উত্তরঃ একটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৫০০ সাইট ম্যানেজমেন্ট করা যায়। আর অসংখ্য সাইটে কোড ব্যবহার করা যায়।

(১০) রেভনিউ শেয়ারিং সাইট  দিয়ে অ্যাকাউন্ট অ্যাপ্রুভ করালে কি আমার আর্নিং থেকে কেটে রাখবে?

উত্তরঃ এটা আপনার ব্যবহারের উপর নির্ভর করবে। এটা কাটবে শুধু ঐ রেভেনিউ শেয়ারিং থেকে আয়ের অংশ আপনার এই অ্যাকাউন্ট দিয়ে নিজের সাইট থেকে আয়ের নয়। তাই নিজের সাইট থেকে যা আয় হবে তা কারো সাথে শেয়ার করতে হবে না। আপনি যদি শেয়ারিং সাইট আর ব্যবহার না করেন তাহলে তো কাটাকাটির কোন প্রশ্নই আসে না।

I would like to share my knowledge with others as well as learn the unknown things. “There is no tomorrow, do today whatever you want to do”

(1248)

Related posts:

মন্তব্য

মন্তব্য