জীবনে যে ৫টি সময় ‘না’ বলাটাই সঠিক সিদ্ধান্ত

15-say-no

আমাদের ব্যস্ত জীবনে অফিস, সহকর্মী, বাড়ি, পরিবার, বন্ধুমহল সবমিলিয়ে এক বিশাল জগতের সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয়। আর এই মানিয়ে চলার মধ্যে হ্যাঁ-সূচক কথাবার্তা বা কাজকর্মে মন দিতে হয়। এতে কী জীবনটা সব সময় মনের মতো চলছে? তা চলছে না। বরং উল্টো হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলু-এর ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সের প্রফেসর ড. ভেনেসা বোনস বলেন, সামাজিকতার মাঝে সুষ্ঠুভাবে প্রতিক্রিয়াশীল থাকার একটি মৌলিক শর্ত হলো অনেক বিষয়ে ‘না’ বলা। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘না’ বলার মাঝে এক ধরনের হুমকি রয়েছে যা আমাদের সম্পর্কেরই অংশ। তবে এখানে দেখে নিন, জীবনের কোন ৫টি ক্ষেত্রে আপনাকে সরাসরি ‘না’ বলতে হবে।

১. মজার সময় কাটানো বাদ দিন : নেতিবাচক শোনা গেলেও ব্যাখ্যাটি বুঝে নিন। অনেক পরিচিত বা অপরিচিত মানুষের মাঝে কাজের প্রয়োজনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। অথবা পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে মজা করছেন। দিনের শেষে এবার নিজেকে প্রশ্ন করুন, যে সময় কাটিয়ে এসেছেন সেখান থেকে সরে আসতে পারলে কি আপনার বেশি ভালো লাগতো? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তবে এরপর থেকে এসব কোলাহলপূর্ণ পরিবেশকে ‘না’ বলুন। আপনার এবং সবার বুঝতে হবে যে, সবার মাঝেই ছোট একটি দুনিয়াজুড়ে শুধু নিজের কিছু সময় আলাদা করে রাখতে হয়।

২. অবসন্ন লাগলে কাজটি বাদ দিন : সবচেয়ে পরিশ্রমী খেলোয়াড়রাও অবসন্ন-ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং তখন তারা বিশ্রামে চলে যান। সেখানে গতানুগতিক জীবন কাটাতে অনেক সময়ই হাঁপিয়ে উঠতে পারেন আপনি। নিয়ম ধরে কাজ করে যেতেই হবে এবং তা ঠিক আছে। কিন্তু যখন আর কুলিয়ে উঠতে পারছেন না তখন অবশ্যই ‘না’ বলুন।

৩. নিজেকে বুঝতে না পারলে একাকী হয়ে যান : যখন বিচ্ছিন্ন আর এলোমেলো চিন্তাগুলো আপনাকে প্রায় পাগল বানিয়ে দিচ্ছে, তখন আর তাদের সঙ্গে বোঝাপড়া নয়। একটি গুহা খুঁজে নিয়ে সেখানে একাকী ঢুকে পড়ুন। আপনার এখন প্রয়োজন সম্পূর্ণ কোলাহলমুক্ত পরিবেশ ও সময়। দায়িত্বশীলতা কাঁধে নিয়ে ছুটতে ছুটতে এক সময় এসব চিন্তার ঘূর্ণি তৈরি হবে। তখন শক্তভাবে সবকিছুকে না-সূচক ইঙ্গিত দেখান।

৪. বাজে একটি সপ্তাহের পর একান্ত ছুটি কাটান : পুরো সপ্তাহে ব্যাপক ঝামেলা সামলাতে হতে পারে। সব সুষ্ঠুভাবে সামলাতে গিয়ে অবশেষে বেসামাল হয়ে পড়বেন নিশ্চিত। আর ঝামেলা নয়, এবার সব কাজ আর স্বজনদের বিদায় দিয়ে একাকী ও একান্তে ছুটির দিন কাটান। যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন, তবে একা। গোটা সময় নিজের জন্য ব্যয় করুন আর অন্যদের ‘না’ বলুন।

৫. মুড নেই তো না বলুন : এ ধরনের পরিস্থিতির কোনো ব্যাখ্যা থাকে না। সবই ঠিক আছে কিন্তু কোনো কিছুতেই মুড আসছে না। এ সময় আসলে চেষ্টা করেও কোথাও মন বসানো যায় না। এটিও বেশ বিরক্তিকর এক পরিস্থিতি যাকে এড়িয়ে চলা যায় না। কাজেই এড়িয়ে চলার প্রয়োজন নেই, ‘না’ বলে দিন।
সূত্র : হাফিংটন পোস্ট

(1730)

Related posts:

মন্তব্য

মন্তব্য