মুখ ও দাঁতের সুস্বাস্থ্যের সঠিক নিয়মগুলো জেনে নিন

Beautiful woman smile.

দাঁত ও মুখের সুস্বাস্থ্যের জন্য সঠিক নিয়মে পরিচর্যা করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সঠিক নিয়মে দাঁত ব্রাশ করা কিংবা মুখ পরিষ্কারের নিয়ম অনেকেরই জানা নেই। সম্প্রতি ব্রিটিশ ডেন্টাল জার্নাল এক গবেষণার ভিত্তিতে টুথব্রাশ ব্যবহারের সবচেয়ে কার্যকর উপায় প্রকাশ করেছে। এ ছাড়াও তারা বিভিন্ন টুথব্রাশ, টুথপেস্ট ও এ ধরনের আনুষঙ্গিক বিষয়ে গবেষণায় তাদের পর্যবেক্ষণের ফলাফল প্রকাশ করেছে।

নিয়মিত ব্রাশ ফ্লস
গবেষণায় জানা গেছে, ভালোভাবে দাঁত ব্রাশ ও ফ্লস মুখ থেকে খাদ্যকণা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এতে মুখের ব্যাকটেরিয়াগুলো ক্যাভিটি তৈরি করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত দাঁত ব্রাশ ও ফ্লস করার বিকল্প নেই বলেও জানান গবেষকরা। এ ছাড়াও বছরে কমপক্ষে একবার ডেন্টিস্টের সঙ্গে দেখা করা প্রয়োজন। বছরে একবার করে দাঁত পেশাদারদের সহায়তায় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এতে দাঁতের যেসব স্থানে ব্রাশ পৌঁছায় না কিংবা পৌঁছালেও পুরোপুরি পরিষ্কার হয় না এমন স্থানের পরিচর্যা সম্ভব হবে।

টুথব্রাশ পছন্দ
টুথব্রাশ পছন্দ এ ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গবেষকরা জানিয়েছেন ইলেকট্রিক টুথব্রাশ কিংবা সাধারণ টুথব্রাশ উভয়ই দাঁতের ক্ষেত্রে কার্যকর। তবে অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই সফট ব্রাশ সবচেয়ে ভালো। কারণ এতে এনামেল ও মাড়ির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে। এ ছাড়া ব্রাশের আকারও হওয়া উচিত আরামদায়ক। খেয়াল রাখতে হবে এটি দিয়ে দাঁতের সব স্থানে যেন ব্রাশ করা যায়।

মানসম্মত টুথপেস্ট
অধিকাংশ টুথপেস্টেই ক্যাভিটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক পদার্থ থাকে। কিছু টুথপেস্টে থাকে দাঁত সাদা করার উপাদান। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের স্বীকৃতির জন্য এগুলোতে বাধ্যতামূলকভাবে ফ্লোরাইড যোগ করতে হয়। কিছু পেস্টে ক্যালসিয়াম কার্বনেট, বেকিং সোডা ও ফেনার জন্য ডিটারজেন্ট যোগ করা হয়। দাঁতের সুস্বাস্থ্যের জন্য ‘মিন্ট’ থেকে শুরু করে ‘আর্কটিক ব্লাস্ট’ পর্যন্ত যেকোনো স্বাদের টুথপেস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কিছু পেস্টে জীবাণুনাশক উপাদান থাকে যা জীবাণুর বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রতি

সঠিক নিয়মে ডেন্টাল ফ্লস
শুধু ব্রাশ করলেই তা আপনার মুখের সব খাদ্যকণা দূর করবে না। এ জন্য আপনার ফ্লস করতে হবে। এটি দুই দাঁতের মাঝে থাকা প্লাক দূর করবে। অন্যথায় এগুলো সমস্যা তৈরি করতে পারে। এর ফলে গাম সংক্রমণ, মুখে দুর্গন্ধ এমনকি দাঁত হারানোর মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। সঠিক নিয়মে দিনে একবার করে ফ্লস করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এ জন্য যা করতে হবে তা হলো :

১. প্রায় ১৮ ইঞ্চি ফ্লস নিয়ে আপনার দুই হাতের মধ্যমাতে পেঁচিয়ে নিন।
২. ফ্লস এক হাতের কড়ে আঙুল ও অন্য হাতের দুই আঙ্গুলে চিমটি দিয়ে ধরুন।
৩. এরপর তা দুই দাঁতের ফাঁকে ঢুকিয়ে ‘c’ আকারে ধরুন।
৪. এরপর তা সাবধানে ওপরে-নিচে করুন। দাঁতের দিকে ঘষুন।
৫. আপনার পেছনের দাঁতসহ সব দাঁতের ফাঁকে ফ্লস করতে ভুলবেন না।

ব্রাশ করার সঠিক উপায়
মুখের ভেতরের সব দাঁতের উভয় পাশ ভালোভাবে ব্রাশ দিয়ে ঘষতে হবে। দাঁত ব্রাশ করার সময় হওয়া উচিত প্রায় দুই মিনিট। এ সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ মুখের দাঁত ভালোভাবে পরিষ্কার করা সম্ভব। এরপর পানি দিয়ে তা ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে।

দিনে কয়বার ব্রাশ করতে হবে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ দেখা যায়। অনেক বিশেষজ্ঞ প্রত্যেক খাওয়ার পরই দাঁত ব্রাশ করার কথা বলেন। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ দাঁতের এনামেলের সুরক্ষায় খাওয়ার ঠিক পরই নয়, এক ঘণ্টা পর ব্রাশ করার কথা জানিয়েছেন। বিশেষ করে এসিড ধরনের কোনোকিছু খাওয়া হলে দাঁতের এনামেলের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। আর এর পরই ব্রাশ করা হলে তা এসিড ও ব্রাশের সংমিশ্রণে দাঁতের এনামেল আরও কমিয়ে দিতে পারে। দাঁত ব্রাশ করার পাশাপাশি জিহ্বাও ব্রাশ করতে হবে। জিহ্বায় জমা হওয়া জীবাণু দমন করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যথায় মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে।
দাঁত ব্রাশের নানা পদ্ধতি প্রচলিত আছে। তবে এসবের মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর হিসেবে ‘মডিফাইড ব্যাশ’ পদ্ধতিকেই তুলে ধরেছে সাম্প্রতিক গবেষণা। এ পদ্ধতিতে ব্রাশ করার উপায় :

১. দাঁতের মাড়ির সঙ্গে ৪৫ ডিগ্রি কোণে টুথব্রাশটি ধরতে হবে।
২. ব্রাশটি ছোট ছোট স্ট্রোকে সামনে পেছনে নড়াতে হবে।
৩. দাঁতের বাইরের অংশ, ভেতরের অংশ ও চিবানোর জন্য ব্যবহৃত অংশ ব্রাশ করুন।
৪. ব্রাশ সোজা করে ধরে সামনের দাঁতের ভেতরের অংশ ওপরে-নিচে করে কয়েকবার ব্রাশ করুন।
৫. জীবাণু দূর করার জন্য জিহ্বা ভালোভাবে ব্রাশ করুন।

 

মাউথওয়াশ
মুখের সুস্বাস্থ্যের জন্য মাউথওয়াশ একটি ভালো উপায়। তবে এটি ব্রাশ বা ফ্লসের মতো অত্যাবশ্যকীয় নয় বলে জানান ড. শেলি ক্র্যাম। তিনি আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের ভোক্তা পরামর্শক। দাঁত হারানোর প্রধান কারণ গাম সংক্রমণ। এর বিরুদ্ধে মাউথওয়াশ তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। এটি প্লাকের জন্য দায়ী সব ব্যাকটেরিয়া দূর করে। যদিও এগুলো পরে দ্রুত ফিরে আসে।

I would like to share my knowledge with others as well as learn the unknown things. “There is no tomorrow, do today whatever you want to do”

(2428)

Related posts:

মন্তব্য

মন্তব্য