ক্ষুদ্র ব্যবসায় উদ্যোগ নেয়ার জন্য কিছু পরামর্শ

images

কোন ব্যবসায় উদ্যোগ কিন্তু কোটি টাকা দিয়ে শুরু হয় না! শুরু হয় আপনার আমার মত সাধারণ মানুষের সাধারণ স্বপ্ন আর ইচ্ছা শক্তি নিয়ে। আর এই স্বপ্ন সফলতা পায় কিছু মৌলিক বিষয় বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে।

যে কোন ব্যবসায় উদ্যোগ নেবার জন্য যে বিষয় পরিপালন করতে হবে তা হলোঃ

  • চাহিদা চিহ্নিত করন
  • বাজার চিহ্নিত করন
  • বাজার গবেষণা
  • পণ্য বা সেবা ধারনা
  • পণ্য বা সেবা উৎপাদন, উপযোগিতা দান  বা সংগ্রহ
  • দাম নির্ধারণ
  • বাজারজাতকরণ
  • পণ্য বা সেবা বিক্রয়
  • ক্রেতা অভিঙ্গতা গবেষণা
  • পণ্য উন্নয়ন
  • অতঃপর পুনরায় পণ্য বা সেবা উৎপাদন, উপযোগিতা দান  বা সংগ্রহ

১) ধরা যাক আপনি ছাত্র-ছাত্রী দের কেন্দ্র করে কোন ব্যবসা করতে চান। তাহলে তাদের চাহিদা হলো খাতা-কলম-বই ইত্যাদি ষ্টেশনারী দ্রব্য। আপনি কিন্তু ইতিমধ্যে ১ম ও ২য় ধাপ পার করে ফেলেছেন। অর্থাৎ চাহিদা হলো চিহ্নিতকরন আর বাজার হল ছাত্র-ছাত্রী।

২) এইবারে ৩য় ধাপে আপনি চিন্তা করুণ এই সকল ছাত্র-ছাত্রী কি ধরনের পণ্য বেশি পছন্দ করে বা ক্রয় করে। খাতা-কলম? কি মানের-দামের খাতা-কলম। তাদের গড় ক্রয় ক্ষমতা কত? ইত্যাদি।

৩) বোধ করি বাজার সম্পর্কে আপনি একটি ধারনা দাঁড় করাতে পেরেছেন। এবার ৪র্থ ধাপে ঠিক করুণ আপনি কি পণ্য বা সেবা নিয়ে বাজারে উপস্থাপন করবেন। আপনি কি পাইকারি বাজারে যা পাওয়া যায় তাই উপস্থাপন করবেন? নাকি নতুন উপযোগিতা সৃষ্টি করে তা বাজারে আনবেন নাকি মূল্য যুদ্ধে অবতীর্ণ হবেন। ধরা যাক আপনি নতুন উপযোগিতা নিয়ে লেখার খাতা বাজারে নিয়ে আসবেন ঠিক করেছেন।

৪) ৫ম ধাপে আপনি যা করবেন তা হল পণ্যের উৎপাদন। আপনি হয়তো শক্ত মলাট যুক্ত বিভিন্ন মনিষীর জীবনী প্রিন্ট-কৃত খাতা তৈরি করলেন।

৫) ৬ষ্ট ধাপে আপনি যা করবেন তা হল ধাম নির্ধারণ। উৎপাদনে প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যয় সূক্ষ্ম ভাবে নির্ধারণ করতে হবে এবং এর যোগফলের উপর যুক্তি সঙ্গত মুনাফা ধরে দাম নির্ধারণ করতে হবে।

৬) ৭ম ধাপে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণ করতে হবে। অর্থাৎ পণ্য সম্পর্কে বাজার কে অবহিত করতে হবে, পণ্য কে বাজারে সহজ প্রাপ্য করতে হবে যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে।

৭) ৮ম ধাপে আপনি গুরুত্ব দিবেন পণ্য বিক্রয়ে। নিরবিচ্ছন্ন যোগাযোগ, বিবিধ প্রণোদনার মাধ্যমে পণ্য বিক্রয়ে সচেষ্ট হতে হবে।

৮) ৯ম ধাপ। বেশির ভাগ সময়ে ৮ম ধাপেই অনেকে ব্যবসায় চক্র সম্পন্ন করেন। এটি সম্পূর্ণ ভুল। আপনার পণ্য ক্রেতার প্রয়োজন সফল ভাবে মেটাতে পারলো কিনা তা জানার দায়িত্ব আপনার রয়েছে। কারণ, ক্রেতা-পছন্দ না হলে সেই ক্রেতা দ্বিতীয় বার আপনার পণ্য ক্রয় করবে না বরং বাজারে পণ্য সম্পর্কে নেতিবাচক তথ্য ছড়াবে। তাই ক্রেতা অভিঙ্গতা সম্পর্কে জানতে হবে।

৯) ১০ম ধাপে ক্রেতা অভিজ্ঞতার আলোকে পণ্য উন্নয়ন করতে হবে।

১০) ১১তম ধাপে আবার পণ্য উৎপাদনে যেতে হবে।

উপরোক্ত ধাপ সমূহ মেনে চললে একটি ব্যবসা এক সময় না এক সময় সফল হতে বাধ্য। পাঠক তার মন্তব্য দিয়ে লেখাটি প্রাণবন্ত করবেন আশা রাখি।

আমি বহুদিন যাবত মনোবিজ্ঞান এবং আত্ম উন্নয়ন নিয়ে পড়ছি। এছাড়াও আমি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং করছি। আমি শিখাতে পছন্দ করি এবং আত্ম উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়ে মানুষকে সাহায্য করতে ভালোবাসি যেন অন্যরাও তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন। আমি সবসময় সুখি থাকার চেষ্টা করি এবং সফলতার বিষয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষা রাখি।

(1579)

Related posts:

মন্তব্য

মন্তব্য